শিক্ষা তথ্য :  পূর্ববাংলার অন্যান্য স্থানের মতো খ্রিস্টীয় উনিশ শতকের আগ পর্যন্ত চট্টগ্রামের শিক্ষাব্যবস্থার কোন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ ছিল না। তবে খ্রিস্টীয় অস্টম শতকে পণ্ডিত বিহার নামে একটি বৌদ্ধ শিক্ষালয়ের অস্তিত্বের ব্যাপারে অধিকাংশ ইতিহাসবিদই একমত পোষণ করেন। এই বিহারটিকে অনেকে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমমর্যাদাসম্পন্ন হিসেবে গণ্য করে থাকেন। প্রজ্ঞাভদ্র নামের এই বিহারের একজন অধ্যক্ষ সংস্কৃত ও পালি ভাষায় ছয়টি পুস্তক রচনা করেন। বিখ্যাত পণ্ডিত লইপাদ, শবরিপাদ, ধর্মশ্রী, মৈন, বুদ্ধজ্ঞানপাদ প্রমুখ এই বিহারের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।

এই বিহারের অবলুপ্তির পর পরবর্তী প্রায় ১ হাজার বছর পর্যন্ত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার তেমন কোন নজির পাওয়া যায় না। মোগল ও তৎপরবর্তী আমলে স্থানীয় শিক্ষা ছিল ধর্ম ভিত্তিক। মুসলমানদের জন্য মক্তব‌-মাদ্রাসা, হিন্দুদের পাঠশালা-টোল-চতুষ্পাঠী আর বৌদ্ধদের কেয়াং। মোগল আমলে রাজকীয় কাজের ভাষা ছিল ফার্সি ভাষা। সেকারণে চট্টগ্রামেও ফার্সি ও সংস্কৃত ভাষার ব্যাপক প্রচলন হয়।

শিক্ষা ব্যবস্থা : চট্টগ্রাম জেলার সাক্ষরতার শিক্ষার হার ৫৮.৯০% রয়েছে, এর মধ্যে পুরুষ ৫৮.৯% – ৬১.১% মহিলা ৫৬.৭%

অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছেঃ

 

  • মাদ্রাসা – ২৯৯ টি
  • সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয় -৫৮ টি
  • বেসরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়- ৬৩২ টি
  • বেসরকারী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় – ৩২ টি
  • স্কুল এন্ড কলেজ (স্কুল সেকশন)-২৯ টি
  • সরকারী কলেজ – ০৯ টি
  • বেসরকারী কলেজ- ৮২ টি
  • সরকারী উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ- ০১ টি
  • বেসরকারী উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ- ২৬ টি
  • সরকারী মাস্টার্স কলেজ- ০১ টি
  • পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়- ০৩ টি
  • বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়- ০৬ টি
  • মেডিকেল কলেজ- ০২ টি
  • আইন কলেজ- ০২ টি
  • কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান- ০৪ টি
  • শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র-০২ টি
  • মেরিন একাডেমী- ০১ টি
  • মিলিটারী একাডেমী- ০১ টি
  • নেভাল একাডেমী- ০১ টি
  • মেরিন ফিসারীজ একাডেমী- ০১ টি
  • পাবলিক লাইব্রেরী- ০৮ টি
  • প্রাথমিক বিদ্যালয় -২৯৯৭ টি
  • সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়- ১৬৩৪ টি
  • বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় – ৮৪৭ টি
  • রেজিস্টার্ড বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়-৫১৯ টি
  • পরীক্ষণ বিদ্যালয়- ২ টি
  • অন্যান্য (কেজি স্কুলসহ)- ৮৪২ টি
  • সরকারি প্যারা মেডিক্যাল কলেজ- ০

উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান:শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৬৬), চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৬৮), স্যার আশুতোষ ডিগ্রি কলেজ (১৯৩৯), সাতকানিয়া কলেজ (১৯৪৯), পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় (১৮৪৫), বাণীগ্রাম প্রাথমিক বিদ্যালয় (১৮৮১), রামগতি রামধন আব্দুল বারী চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় (১৮৯৮), আদর্শ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় (১৯০২), আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয় (১৯১৪), রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় (১৯১৫), সাতকানিয়া গারাংগিয়া ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা (১৯২০), শাহ চাঁন্দ আউলিয়া আলিয়া মাদ্রাসা (১৯২৮), উত্তর আমিরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৩২), ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ (১৯৫৮), ড. খস্তগীর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়, ইস্পাহানি স্কুল এন্ড কলেজ, চট্টগ্রাম সিটি কলেজ, চট্টগ্রাম কলেজ, চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল, মোহসীন কলেজ এবং চট্টগ্রাম কমার্স কলেজ।