চট্টগ্রাম নগরীর সম্প্রসারণ ও বিকাশ

নগরীর সম্প্রসারণ ও বিকাশ  ১৯৪৭ সালে চট্টগ্রাম শহরের আয়তন ছিল মাত্র সাড়ে চার বর্গমাইল এবং সারা শহরে বিক্ষিপ্ত নিচু ও ছোট  টিলাগুলির চারপাশ ঘিরে শহরটি গড়ে ওঠে। শহরের উত্তর সীমায় রয়েছে দামপাড়া, নাসিরাবাদ, কাতালগঞ্জ, কাপাসগোলা ও শোলকবহর; দক্ষিণে কর্ণফুলী, পূর্বে চাকতাই খাল এবং পশ্চিমে মাদারবাড়ি, পাঠানটুলি ও দেওয়ানহাট। প্রথমে শহরটি এ চৌহদ্দিতেই সীমাবদ্ধ ছিল। দ্রুত শিল্পায়ন ও উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে শহরটি পুরাতন পৌরসভার সীমা ছাড়িয়ে নগরীতে পরিণত হয়। নগরটি দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে পতেঙ্গা পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়েছে যেখানে বর্তমানে চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অবস্থিত। পশ্চিম দিকে এর সম্প্রসারণ হালিশহর, আসকারাবাদ ও আগ্রাবাদ গ্রামগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। অফিস ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নির্মাণের জন্য সরকার এ গ্রামগুলির ভূমি অধিগ্রহণ করেছে। উত্তর দিকে এর সম্প্রসারণ ঘটেছে ফৌজদার হাট ও চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট এলাকা এবং উত্তর-পূর্ব দিকে কালুরঘাট পর্যন্ত।

নগরীর সম্প্রসারণের সমন্বয় সাধন ও পরিকল্পিতভাবে নগরটি গড়ে ওঠার কাজে সহায়তার জন্য পাকিস্তান সরকার ১৯৫৯ সালে ৫১ নং অধ্যাদেশ বলে স্বশাসিত সংস্থা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করে। এ অধ্যাদেশ অনুসারে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান দায়িত্বগুলি হচ্ছে: (১) চট্টগ্রাম ও এর সন্নিহিত এলাকার জন্য একটি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা এবং প্রতি পাঁচ বছর অন্তর এ মহাপরিকল্পনা পুনর্নিরীক্ষণ করা; (২) চট্টগ্রাম নগরীর উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের জন্য স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা; (৩) ১৯৫২ সালের পূর্ববাংলা গৃহনির্মাণ আইন প্রয়োগ করা। চট্টগ্রামে ইমারত নির্মাণের নকশা পরীক্ষণ ও অনুমোদন এ সংস্থার এক্তিয়ারভুক্ত।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নগরীকে কয়েকটি ব্লকে বিভক্ত করে একটি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করে। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অফিসের ব্যবস্থাসহ বন্দর উন্নয়ন কর্মসূচির জন্য সুনির্দিষ্ট এলাকা ছিল সদরঘাট, মাদারবাড়ি, ডবলমুরিং ও হালিশহর। সরকারি দপ্তর এবং কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আবাসিক ভবনের জন্য সুনির্দিষ্ট এলাকা ছিল আগ্রাবাদ। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ পাহাড়তলি পর্যন্ত নিচু পর্বতসারির পশ্চিম ঢালের উন্নয়ন সাধন করে। শিল্পোন্নয়নের জন্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন শিল্পের জন্য ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চল নির্দিষ্ট করে। এ অঞ্চলগুলি ছিল প্রধানত নাসিরাবাদ, পাঁচলাইশ, ফৌজদারহাট, কালুরঘাট এবং ঢাকা ট্রাংক রোডের সন্নিহিত এলাকা।

১৯৬১ সালের মধ্যে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ২১২ বর্গমাইল এলাকা নিয়ে একটি আঞ্চলিক পরিকল্পনা এবং ১০০ বর্গমাইল এলাকা নিয়ে একটি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করে। UNDP ও UNCHS কর্তৃক বরাদ্দকৃত অর্থে ১৯৯২ ও ১৯৯৬ সালে চট্টগ্রাম নগরীর জন্য নিম্নবর্ণিত মহাপরিকল্পনা তৈরি করা হয়: (ক) চট্টগ্রাম নগরী ও পার্শতবর্তী এলাকায় ১১৫৪ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে একটি নির্মাণ পরিকল্পনা; (খ) চট্টগ্রাম নগরীর শহর এলাকার জন্য মহাপরিকল্পনা; (গ) পরিকল্পিতভাবে ও সমতা রক্ষা করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চট্টগ্রাম নগরীর উন্নয়নের জন্য বহুমুখী সেক্টরে বিনিয়োগ পরিকল্পনা; (ঘ) চট্টগ্রাম নগরীর পয়ঃনিষ্কাশন ও বন্যা নিরোধের জন্য মহাপরিকল্পনা; (ঙ) চট্টগ্রামে যানজট নিরসন ও পরিবহন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা; (চ) নগর উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধির আধুনিকীকরণ এবং উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক ব্যবস্থা পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনা; (ছ) উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কর্মক্ষমতা বাড়ানোর জন্য জনবল উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ নগর পরিকল্পনা ও উন্নয়নের জন্য প্রযুক্তির হস্তান্তর।

শেয়ার পোস্ট

Share on facebook
Share on google
Share on twitter
Share on linkedin